টানা বর্ষণে কক্সবাজারে মৃত্যুর মিছিল: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে প্রাণ গেল ৮ ছাত্রীর, পানিবন্দি লাখো মানুষ

হাইলাইটস

  • উখিয়ার কুতুপালং-৫ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসা ও হেফজখানায় পাহাড়ধসে ৮ ছাত্রীর মৃত্যু।
  • নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে; বাকিদের পরিচয় নিশ্চিতের কাজ চলছে।
  • টানা বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে পৌঁছেছে।
  • জেলার ৯ উপজেলার অন্তত ৩৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দি।
  • প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং-৫ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব-ব্লক এ-৩–এ অবস্থিত খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানায় পাহাড়ধসে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১৩ শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই এবং আরও চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

নিহতদের মধ্যে রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)-এর পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। অপর চারজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

এ নিয়ে গত ছয় দিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ও দেয়ালধস এবং পানিতে ডুবে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হওয়ায় জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ৯ উপজেলার অন্তত ৩৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চল, সড়ক, ফসলি জমি ও চিংড়িঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কয়েকটি নৌপথ বন্ধ রয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করেছে। প্রয়োজন হলে লোকজনকে বাধ্যতামূলকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত চার দিনে জেলায় মোট ৭৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত হতাহতের সংখ্যা ও অন্যান্য তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বশীল সূত্রের প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তকরণ কার্যক্রম চলমান থাকায় পরবর্তী সময়ে তথ্য হালনাগাদ হতে পারে।

Post a Comment

0 Comments