অযৌক্তিক দাবিতে সম্ভাবনাময় ইসলামী জোট ভাঙার দায় কার?
দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামী ও দেশপ্রেমিক শক্তির সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক জোট নিয়ে এতদিন আমি কোনো মন্তব্য করিনি। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি ফয়জুল করিমের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অতি দাম্ভিক রাজনৈতিক অবস্থান আমাকে এই লেখাটি লিখতে বাধ্য করেছে।
বিগত জাতীয় নির্বাচনে চরমোনাইয়ের ভোট প্রাপ্তি
| নির্বাচন বছর | ভোটের হার |
|---|---|
| ১৯৯১ | ০.৭৯% |
| ১৯৯৬ | ১.০৯% |
| ২০০১ | ০.১% |
| ২০০৮ | ১.১% |
| ২০১৮ | ১.৪৭% |
| ২০১৪ ও ২০২৪ | নির্বাচন বর্জন |
এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলটি একটি আসনেও বিজয় অর্জন করতে পারেনি—এটাই বাস্তবতা।
সাম্প্রতিক জরিপে জনমতের চিত্র
আইআরআই (যুক্তরাষ্ট্র), সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০২৫:
জামায়াতে ইসলামী – ২৬%
ইসলামী আন্দোলন (চরমোনাই) – ৪%
ইনোভিশন কনসাল্টিং, সেপ্টেম্বর ২০২৫:
জামায়াতে ইসলামী – ৩০.৩%
ইসলামী আন্দোলন (চরমোনাই) – ৩.১%
প্রথম আলো পত্রিকার জরিপে চরমোনাইয়ের ভোটার ০.১% উঠে এলেও সেটিকে এখানে বিবেচনায় আনা হয়নি।
জোট রাজনীতির বাস্তবতা
জোট রাজনীতির মূলনীতি হলো পারস্পরিক ছাড়, বাস্তবতার স্বীকৃতি এবং শক্তির অনুপাতে আসন বণ্টন। কিন্তু শক্তি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত আসন দাবি রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সারা দেশে ৩–৪টি আসন বাদ দিলে এমন কোনো আসন নেই, যেখানে নির্বাচনী প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সংগঠন ও জনমত তৈরিতে চরমোনাই জামায়াতের চেয়ে এগিয়ে।
ঐতিহাসিক দায়
যদি সারা দেশে ৪–৫টির বেশি আসনে চরমোনাইয়ের নিশ্চিত বিজয়ের সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে আসন নিয়ে এই অস্থিরতা রাজনৈতিক পরিপক্বতার অভাবই প্রকাশ করে।
আর সম্ভাবনাময় বৃহত্তর ইসলামী রাজনৈতিক ঐক্য থেকে সরে দাঁড়ালে ইতিহাস তাদেরকে কঠোরভাবেই বিচার করবে। বিশ্বাসঘাতকতা কখনোই ক্ষমাযোগ্য নয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন