দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তিন শিক্ষার্থীর খালাস
শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন তিন শিক্ষার্থী। প্রায় এক দশক ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, পরিবারের সদস্যরা চাইলে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তারা আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি মামলার পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছিল, তা তদন্ত করে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা শহরের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে পুলিশ, র্যাব, সিআইডি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় হলের ২০২ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত তিন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় কক্ষ থেকে কয়েকটি ধর্মীয় ও ইসলামী বিষয়ক বই জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ড. জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্র, ‘আদর্শ পরিবার পরিবেশ’, ‘পরকালের প্রস্তুতি’ এবং ‘ইসলামী আন্দোলনের পথ ও পাথেয়’ শীর্ষক গ্রন্থ।
পরে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর ওই তিন শিক্ষার্থীকে জঙ্গিবাদের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিছুদিন কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।
এরপর মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় গত ২৪ মে তিন শিক্ষার্থীকে খালাসের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, প্রায় এক দশক ধরে চলা একটি কঠিন অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা মন্তব্য করেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মামলার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির।










