সীতাকুণ্ডে র্যাব-পুলিশ ক্যাম্পে রাতভর সশস্ত্র হামলা, যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুর ও আলীনগরে অবস্থিত র্যাব ও পুলিশের দুটি ক্যাম্পে রাতভর একযোগে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সোমবার সকাল থেকে পুরো এলাকা ঘিরে যৌথ বাহিনীর ব্যাপক অভিযান চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, হামলার আগে সন্ত্রাসীরা আলীনগরের তিনটি এবং জঙ্গল ছলিমপুরের দুটি পয়েন্টে এক্সকাভেটর দিয়ে রাস্তা কেটে দেয়। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সদস্যদের পায়ে হেঁটে প্রায় ৩ হাজার একর পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র জানায়, রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর বৃষ্টিপাত শুরু হলে পুরো পাহাড়ি এলাকায় নেমে আসে নিস্তব্ধতা। রাত ১টার দিকে জঙ্গল ছলিমপুর ও আলীনগরে থাকা র্যাব ও পুলিশের ক্যাম্পে একযোগে হামলা চালায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা ৪০ থেকে ৫০ জনের দলে বিভক্ত হয়ে দুই ক্যাম্প লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোড়ে।
হঠাৎ এই হামলায় প্রথমে কিছুটা হতবিহ্বল হয়ে পড়লেও দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে পাল্টা গুলি চালায় র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। হামলাকারীরা ক্যাম্পে প্রবেশের উদ্দেশ্যে র্যাব ক্যাম্পের একটি সীমানাপ্রাচীরও এক্সকাভেটর দিয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে।
রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গুলিবিনিময় চলে। খবর পেয়ে রাতেই অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা ধীরে ধীরে পিছু হটতে শুরু করে।
র্যাব-৭-এর কমান্ডিং কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, রাত ১টার পর হঠাৎ ক্যাম্পের চারপাশে গুলির শব্দ বেড়ে যায় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হামলাকারীরা গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে র্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান।
জঙ্গল ছলিমপুর র্যাব ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হামলাকারীরা একে-৪৭সহ ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলির তীব্রতা দেখে মনে হয়েছে হামলায় ৪০ থেকে ৫০ জন অংশ নেয়।
হাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের সদস্যরা নিরাপদে আছেন। বর্তমানে যৌথ বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন, “হামলাকারীরা সংঘবদ্ধ এবং আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তারা চোরাগোপ্তা হামলার সুযোগ নিতে চেয়েছে।”
ভোর ৫টার দিকে র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। র্যাবের দাবি, র্যাব সদস্য হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি ‘ইয়াসিন বাহিনী’র সদস্যরাই সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এলাকায় বিপুলসংখ্যক সাধারণ দরিদ্র মানুষের বসবাস থাকায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে ফেলায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সদস্যদের পায়ে হেঁটে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জঙ্গল ছলিমপুর এলাকাকে ঘিরে সরকার পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি, জেলা কারাগারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ঈদের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা পরিদর্শন করে নতুন কয়েকটি প্রকল্প ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন