📰 বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক | Time tv24.info
বাংলা একাডেমির সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যসমালোচক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
📌 হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিরপুরের একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজে গিয়েছিলেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। খাবারের একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে একই ভবনের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা, গবেষণা ও সাহিত্যচর্চার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বাংলা একাডেমির নেতৃত্ব দেন।
১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে আইএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ষাটের দশকের প্রগতিশীল আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকায় অবস্থান করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। স্বাধীনতার পর তিনি সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে সরে এসে গবেষণা, লেখালেখি ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
📚 সাহিত্য ও গবেষণায় অবদান
বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'মুক্তিসংগ্রাম'। এরপর 'একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন', 'রাজনীতি দর্শন', 'সাহিত্য চিন্তা', 'বাংলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা', 'সংস্কৃতির সহজ কথা'সহ প্রায় ৩২টি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। এছাড়া তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ।
সাহিত্য ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখক শিবির হুমায়ুন কবির স্মারক পুরস্কার এবং ভারতের কলকাতার লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্রের সম্মাননাসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ফরিদা প্রধান, কন্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শুচিতা শারমিন, পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপন ২০১৫ সালে জঙ্গি হামলায় নিহত হন।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মরহুমের বাসভবনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাবেন বলে জানা গেছে।
🌿 শেষ বিদায়
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলা ভাষা ও জাতীয় চিন্তায় তাঁর অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন।
🌐 আরও সর্বশেষ খবর পড়ুন:
www.timetv24.info

0 Comments