পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তির ২৫ দিন পর ২২ মে ২০২১ শনিবার ে হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, শারীরিক নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এই নির্যাতনের চিত্র স্পষ্ট ধরা পড়েছে।
ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে আট-দশজন লোক মাহফুজকে ধরে মেঝেতে ফেলে রাখেছে। এর মধ্যে কয়েকজন তাকে পা দিয়ে চেপে রাখছে। অন্যরা কয়েক দফা মারপিট করে। প্রায় ছয় মিনিটের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় মাহফুজের ওপর নির্মম নির্যাতনের ভয়ংকর হৃদয়বিদাড়ক দৃশ্য। মাহফুজের অণ্ডকোষ ফোলা পাওয়া গেছে এবং পিঠের ডান ও বাম পাশে কালচে থেতলানো দাগ, ডান হাতের কবজির ওপর কামড়ানো দাগ, বাম কাঁধের ওপরে থেতলোনো দাগসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন।
এ ঘটনায় নিহত মাহফুজের বাবা ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকসহ ১৪ জনকে আসামি করে যশোর কোতায়ালী থানায় একটি মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রের দুই পরিচালকসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত মাহফুজের বাবা মনিরুল ইসলাম বলেন, মাহফুজ বন্ধুদের সাথে মিশে বিড়ি, সিগারেট খেত, তাকে নিষেধ করলে শুনত না। বরং বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করত এবং বাড়ির লোকজনের সাথে খারাপ আচরণ করত। এ জন্য পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাকে কিছু দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখলে হয়ত সে ভালো হয়ে যাবে। সে মোতাবেক তাকে যশোর ফুড গোডাউনের পাশে মাদক নিরাময় আশ্রয় কেন্দ্র নামের প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে আমার ছেলের ওপর অমানসিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। ইতোমধ্যেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আমি যশোর কোতায়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন প্রত্যক্ষদর্শী রোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, শনিবার রাত ১২টার দিকে মাহফুজ ঘুমাতে যায়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাওয়ায় নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসাধীন কয়েকজন, পরিচালক মাসুদ করিম ও আশরাফুল কবিরের নির্দেশে মাহফুজকে মেরে গুরুতর আহত করে। এসময় তারা মাহফুজের নাক ও মুখে অতিমাত্রায় পানি ঢালে। নির্যাতনে মাহফুজুর অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ভ্যানে করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের বারান্দায় রেখে পালিয়ে যায় তারা।
মাহফুজ জীবননগর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড নারায়ণপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে।

0 মন্তব্যসমূহ