ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জি নিউজ জানিয়েছে, মুসলমান ছাড়া সব ধর্মের মানুষকে নাগরিকত্ব দেয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ভারত।
জানা গেছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে গুজরাট, রাজস্থান, ছত্তিসগড়, হরিয়ানা, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যে বসবাসকারী হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইসাথে মুসলমান ছাড়া অন্য সবাই যাতে অবিলম্বে আবেদন করেন, এ আমন্ত্রণবার্তাও দেয়া হয়েছে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। শুক্রবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ওই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) পাসের পর থেকেই ভারতজুড়ে শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ বিক্ষোভ। এমনকি দাঙ্গাও বাঁধে দিল্লিতে। ২০২০ সালেও ওই সিএএবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত থাকে দেশটিতে। কিন্তু মহামারী করোনার প্রভাবে সবকিছু থেমে গেলে আন্দোলনও থেমে যায়।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সংশোধিত ‘নাগরিকত্ব আইন সিএএ-২০১৯' এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন, শিখ ও পার্সিদের সহজেই নাগরিকত্ব দেয়ার প্রক্রিয়া করা শুরু করা হচ্ছে।
এর আগে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অনিল মালিকের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন-২০১৯' ধারা ১, উপধারা ২ মেনে ১০ জানুয়ারি ২০২০ থেকে আইন কার্যকর করা হলো।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘নাগরিকত্ব সংশোধন আইন-২০১৯' বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুদের চিহ্নিত করবে। ফলে অনাগরিক অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। তবে এই আইন মুসলিমবিদ্বেষ আরও উস্কে দিবে।
উল্লেখ্য, ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদী একজন উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার দল বিজেপিকেও সেই একই মানদন্ডে মাপা হয়। তিনি ২০০২ সালে গুজরাটের মূখ্যমন্ত্রী থাকাকালে সেখানে বড় ধরণের হিন্দু-মুসলিম দাংগা হয়। তিনদিনের সহিংসতায় যেখানে প্রায় ২০০০ মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছিল এবং নিখোঁজ হয় ২২৩ জন। নরেন্দ্রমোদীর বিরুদ্ধে যেটি সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ তা হলো তিনি সহিংসতা শুরু, প্রশ্রয় ও সরকারি পুলিশ দিয়ে দাঙ্গাকারীদের নির্দেশনা ও মুসলমানদের মালিকানাধীন সম্পত্তির তালিকা দিয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন