🚨 ইমামতির ভান করে পুলিশের চোখ ফাঁকি, অবশেষে গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা গোলাম আজম
ঢাকা: নামাজের ইমামতি করার বাহানায় পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়া আলোচিত ব্যবসায়ী ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা গোলাম আজম (৪৫) অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বুধবার (১৭ জুন) সকালে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে পল্টন থানা পুলিশ।
📌 আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর আদালতে জাকির হোসেন মিজি বাদী হয়ে গোলাম আজমের বিরুদ্ধে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন, ২০১৩’ এর বিভিন্ন ধারায় প্রতারণা ও মানবপাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
⚖️ পরোয়ানা কার্যকরের অংশ হিসেবে গত ১৫ জুন (সোমবার) পুরানা পল্টনে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।
🕌 পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটকের পর গোলাম আজম আসরের নামাজ আদায়ের অনুমতি চান। মানবিক কারণে পুলিশ তাকে সেই সুযোগ দিলে তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে জামাতে নামাজ শুরু করেন এবং নিজেই ইমামতি করেন।
🏃♂️ তবে ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে দ্বিতীয় রাকাতে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিজদা থেকে উঠে তিনি মুসল্লিদের সিজদায় রেখেই অফিসের পেছনের দিক দিয়ে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান। এতে উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও মুসল্লিরা হতবাক হয়ে পড়েন।
🚔 এ ঘটনার পরপরই পল্টন থানা পুলিশের একাধিক টিম তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করে। অবশেষে বুধবার সকালে প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
📢 পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে ম্যানপাওয়ার ব্যবসার আড়ালে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মানবপাচার মামলা রয়েছে।
🏛️ যদিও তিনি নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন, দলীয় সূত্রের দাবি— অনেক আগেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে তার কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই।
📱 এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি তার ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করতেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
🔍 পল্টন থানা পুলিশ জানিয়েছে, পূর্বের মামলার পাশাপাশি পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
⚠️ উল্লেখ্য: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন