🚨 পরীমণি ইস্যুতে সাবেক ডিবি কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে রাত্রিযাপন ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
📝 সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন। এখন এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
📌 ঘটনার সূত্রপাত
২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন।
পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, সাকলায়েনের বাসায় পরীমণির নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তাকে ডিবি থেকে বদলি করা হয় এবং অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
🔎 তদন্তে যা উঠে আসে
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডিবি গুলশান বিভাগের এডিসি থাকাকালে পরীমণির সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি নিয়মিত পরীমণির বাসায় রাত্রিযাপন করতেন।
📱 পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখা থেকে প্রাপ্ত ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে (দিন ও রাত) তিনি পরীমণির বাসায় অবস্থান করেছেন।
🏠 সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ আগস্ট গোলাম সাকলায়েন তার স্ত্রী বাসায় না থাকা অবস্থায় পরীমণিকে রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থানের পর ২ আগস্ট রাত ১টা ৩০ মিনিটে পরীমণি বাসা ত্যাগ করেন।
⚖️ সরকারের অবস্থান
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি দায়িত্বের বাইরে পরীমণির সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন, জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সময় কাটানোর মতো কর্মকাণ্ড সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
উল্লেখ্য, গোলাম সাকলায়েন বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। এরপরও তার বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ আনা হয়।
📑 বিভাগীয় মামলার অগ্রগতি
তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন।
বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনা করেন জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
📨 পরে ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মতামত চেয়ে চিঠি পাঠায়। পিএসসির পরামর্শ গ্রহণের পর এবার তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
📢 সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন